৮ নভেম্বর ২০১৫ - ০০:২৫
মুসলিম প্রার্থী খিন মং থিন

মিয়ানমারের মুসলমানরা এবার পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকেই প্রায় বাদ পড়েছেন।

আবনা ডেস্ক : মিয়ানমারের মুসলমানরা এবার পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকেই প্রায় বাদ পড়েছেন। একদিকে যেমন রোহিঙ্গা মুসলমানদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে, তেমনি নির্বাচনের প্রার্থিতা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে অন্য মুসলমান প্রার্থীদের। উগ্র বৌদ্ধদের ঘনিষ্ঠ সামরিক জান্তা সরকারি দল তাদের কোনো মুসলমান প্রার্থী রাখেনি, তেমনি গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সুচিও তার দলে কোনো মুসলিম প্রার্থী দেননি। এ অবস্থায় বৌদ্ধ ঘাঁটিতে মুসলমানদের জন্য লড়াই করছেন খিন মং থিন।
তিনি মুসলমান। মান্দালে নগরীর বাসিন্দা। পারিবারিক রঙের ব্যবসা দেখাশোনা করেন। এ মুহূর্তে তার বড় পরিচয় তিনি নির্বাচন করছেন। দোতলা বাড়িটিই তার নির্বাচনী কার্যালয়। আজকের নির্বাচনে তিনিই একমাত্র মুসলিম প্রার্থী। খবর ভয়েস অব আমেরিকার।
মিয়ানমারের এই দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরীটি চরমপন্থী বৌদ্ধদের অন্যতম ঘাঁটিও। বাঘা বাঘা প্রার্থীরাও যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ভয় পান, সেখানে তিনি নির্বাচন করছেন। বৌদ্ধ মন্দিরের ভিড়ে তার অস্তিত্ব চাপাই পড়ে আছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৩০ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিমকে ভোটাধিকার দেয়া হয়নি। স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে সুচির এনএলডির ১ হাজার ১৫১ প্রার্থীর মধ্যে একজনও মুসলিম নেই। যদিও দেশটিতে প্রায় ৫০ লাখ মুসলিমের বসবাস। দেশটির মোট জনসংখ্যার তুলনায় তা প্রায় ৪ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে। দেশটিতে উগ্রপন্থী বৌদ্ধদের মুসলিমবিরোধী মনোভাবের কারণেই মুসলিম প্রার্থী না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গণতন্ত্রপন্থী দল এনএলডি।
এনএলডি নেতারা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, সন্ন্যাসী আর উগ্র বৌদ্ধদের গ্রুপ মা বা থা’র ক্রোধের ভয়ে তারা মুসলিম প্রার্থী নেয়নি। এ গ্রুপের নেতা বিরাথু। তিনি নিজেকে ‘বার্মিজ বিন লাদেন’ হিসেবে অভিহিত করেন। মুসলিমবিরোধী ব্যক্তি হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে। এ গ্র“পটি বলছে, মুসলমানরা বৌদ্ধ ধর্মের সর্বনাশ করছে। তারা মুসলিম বর্জন করার আহ্বানও জানাচ্ছে।
বৌদ্ধরা নানাভাবে মুসলমানদের বঞ্চিত করছে। পশ্চিম মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের তো ভোটাধিকারই দেয়া হয়নি। আর অন্য যেখানে মুসলিম প্রার্থী ছিল, তাদের প্রায় সবারই প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। এখন জনাদশেক মুসলিম প্রার্থী নির্বাচনে রয়েছেন। এদের প্রায় সবাই খিন থিনের ইউনাইটেড ন্যাশনাল কংগ্রেসের (ইউএনসি) প্রার্থী।
৭১ বছর বয়স্ক খিন বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মিয়ানমারে মুসলমানরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এর অবসানের জন্যই আমরা পার্লামেন্টে যেতে চাইছি।’ তিনি নিজেকে পাঠি হিসেবে অভিহিত করেন। এ মুসলিম গ্র“পটি ইরানি বংশোদ্ভূত। কয়েকশ’ বছর আগে তারা মিয়ানমারে এসেছেন। তারা নির্বাচনকে জাতিগত গর্ব উত্থানের সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তার দল নির্বাচনী প্রচারণায় সামরিক বাজেট কমিয়ে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর সুপারিশ করছে।
মা বা থা গ্রুপটি সুচিকে ভোট না দিতে মিয়ানমারবাসীকে অনুরোধ করেছে। তারা ক্ষমতাসীন ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (ইউএসডিপি) প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছে। এই দলটিও কোনো মুসলিমকে মনোনয়ন দেয়নি। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা আসলে মিয়ানমারের জনজীবন থেকে মুসলমানদের বিদায় করে দিতে চাইছে। যে অল্প কয়েকজন মুসলমান নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তাদেরও নানাভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে। খিন মং থিন রাস্তায় প্রচারণা চালাতে পারছেন না। তাকে কেবল মসজিদেই বক্তৃতা করতে হচ্ছে। তবে তিনি দমে যাওয়ার লোক নন।